বানারীপাড়ায় নৃশংস হামলায় হাসপাতালে ভর্তি যুবক

>>সাক্ষ্য দিলে হুমকির অভিযোগ<<

বরিশাল অফিস :
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় এক যুবককে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত মাসুম ব্যাপারি (৪০) ওই গ্রামের মকবুল হোসেন ব্যাপারির ছেলে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত মাসুম ব্যাপারি অভিযোগ করে বলেন, “রোববার সকালে আমার এক বড় ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে দেখতে যাই। সেখানে আগে থেকেই আওয়ামী লীগের কয়েকজন অবস্থান করছিল। তারা আমাকে ঘর থেকে টেনে-হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর ১০-১৫ জন মিলে লাঠিসোঁটা ও হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। উপস্থিত অনেকেই আমাকে বাঁচাতে চাইলেও হামলাকারীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, কেউ সাক্ষ্য দিলে তার পরিণতিও আমার মতো হবে।”

মাসুম ব্যাপারি আরও জানান, হামলায় জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের মৃত সোবাহান কাজীর তিন ছেলে সালাম কাজী (৬৫), সাইফুল কাজী (৪০), সায়েম কাজী (৫৫), মকবুল খার ছেলে আল আমিন (৪০) ওরফে খাটো আল আমিন, সেলিম খার ছেলে পান্না খা (২৮), লতিফ ঘরামীর ছেলে রাসেল ঘরামী (২৮), লতিফ ব্যাপারির ছেলে মুজাম্মেল (৩০) এবং জয়নালের ছেলে মজিবর (৪০)।

আহতের বোন শিমু বলেন, “আমি প্রায় দুই বছর পর গ্রামে এসেছি। এর আগেও তারা আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। টাকা না দিলে আমার ভাইকে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। আজ তারা সেই হুমকি বাস্তবায়ন করেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাসেল ঘরামীর পিতা লতিফ ঘরামী বলেন, “আমি মাসুমকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। তখন মনে হয়েছিল সে বেঁচে নেই। এভাবে কাউকে মারধর করা ঠিক হয়নি। দোষী যেই হোক, তার বিচার হওয়া উচিত—সে আমার ছেলে হলেও।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সায়েম কাজী বলেন, “ঘটনার সময় আমি অন্যত্র কাজে ব্যস্ত ছিলাম। পরে শুনেছি একটি রাজনৈতিক বৈঠককে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। তবে হাতুড়িপেটার অভিযোগ সঠিক নয়।” ওপর এক অভিযুক্ত কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল কাজী নিজেকে নির্দোষ দাবী করে জানান, “আমরা অতীতে বিভিন্ন হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। এখনো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, “সকালে মাসুম নামে একজন আহত ব্যক্তি থানায় এসেছিলেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ঐ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *